বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

আমি নিরপরাধ, এখনও আ.লীগে আছি: আদালতে হেলেনা

তরফ নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে আলোচিত ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের উপকমিটির পদ হারানো হেলেনা জাহাঙ্গীর আদালতে নিজেকে নিরপরাধ বলে দাবি করেছেন। এছাড়া তিনি এখনও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে আছেন দাবি করে বলেন, আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এসব কথা বলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের বাসা থেকে আটকের পর শুক্রবার বিকালে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়৷ পরে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলা আদালতে হাজির করা হয়।

সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। পরে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

আদালতের হাকিম রাজেশ চৌধুরী হেলেনা জাহাঙ্গীরের কোনো কথা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের লোক। আমি আওয়ামী লীগের লোক। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছি। আমি কেন দলের বিরুদ্ধে কথা বলবো। আমি কোনো অপরাধ করিনি। তার প্রমাণ নেই।’

হেলেনা বলেন, ‘আমি বহিষ্কার হইনি। আমি এখনও দলের সঙ্গে আছি।’

এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘যার সম্মান নষ্ট করা হয়েছে, শুধু তিনিই মামলা করতে পারবেন। অন্য কেউ এই মামলা করতে পারবেন না।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এজাহার দেখলে ২৫, ২৯ ৩২ ধারায় যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে কোথাও কোনো উল্লেখ নেই, কখন কোথায় কীভাবে কার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তার কোনো উল্লেখ নেই। আসামি একজন সিআইপি, এই মামলায় রিমান্ড কী দরকার? রিমান্ডের কোনো যুক্তি নেই।’ তবে শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ত মঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসায় দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপি টেলিভিশন জয়যাত্রার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

নানা কারণে আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে সভাপতি উল্লেখ করে সম্প্রতি ফেসবুকে চাকরিজীবী লীগের নেতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য পদ বাতিল করা হয়। এর কয়েক দিনের মাথায় তিনি গ্রেপ্তার হলেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com