বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

বানিয়াচংয়ে সবজি চাষে স্বাবলম্বী কৃষক ছালাম

সবজি ক্ষেতে কৃষক আব্দুছ ছালাম

রায়হান উদ্দিন সুমন, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) :

শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন বানিয়াচংয়ের কৃষকরা। সে জন্য অনেক কৃষকই এখন এই পেশায় মনোনিবেশ করেছেন শীতকালীন সবজির চাষের দিকে। আবহাওয়া অনুকূল ও তেমন রোগবালাই না থাকায় শীতের সবজি চাষে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন কৃষকেরা। তেমনি রয়েছেন বানিয়াচং সদরের নন্দীপাড়ার এক সফল সবজি চাষি আব্দুছ ছালাম।

নিজের কোন জমি না থাকা সত্ত্বেও অন্যের (১২ একর) জমি ইজারা নিয়ে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, আলু, শসা, লাউ, মিষ্টি লাউ, শিম, বরবটি, টমেটোসহ নানা শীতকালীন সবজি চাষ করে আসছেন। প্রতি বছরই তিনি অন্যের জমি ইজারা নিয়ে সবজি চাষাবাদ করে আসছেন।

সরেজমিনে বানিয়াচং পশু হাসপাতালের পূর্বদিকে আব্দুছ ছালামের সবজি ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে তিনি পানি দিতে ব্যস্ত। পাশাপাশি তার নিয়োজিত লোকরা নতুন সবজি গাছ থেকে সংগ্রহ করে ঘরে নিয়ে আসছেন।

এ সময় আব্দুছ ছালাম জানান, বর্তমানে খুচরা ও পাইকারি বাজারে সবজির বিক্রি খুব ভাল। তাই এসব সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। শীতের আবহাওয়া শুরুর সাথে সাথেই সবজির চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। এখন তার ক্ষেতে ২২০টির মতো লাউ গাছ রয়েছে যা থেকে গত কয়েক মাসে তিনি ছয় হাজারের মতো লাউ বিক্রি করেছেন। এসব গাছ থেকে আরও লাউ বিক্রি করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আব্দুছ ছালাম। যা থেকে ক্ষেতের ও নিজের শ্রমের খরচ বাদ দিয়েও ভালোই লাভ থাকবে তার। ইতিমধ্যে তার যাবতীয় খরচ উঠে গেছে। লাউয়ের চাষ শেষে এই জমিতেই অন্য কোন সবজি চাষ করবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, কোন ট্রেনিং ছাড়াই বাজার থেকে বীজ কিনে এনে সবজি চাষ করছি। তার এই সবজি ক্ষেত দেখাশুনা করার জন্য ৮ থেকে ১০ জন লোক রয়েছে। প্রতিদিন তার এসব সবজি ক্ষেত থেকে আয় হচ্ছে ১২ থেকে ১৫হাজার টাকা যা দিয়ে তিনি অনায়াসেই সংসারের খরচ চালিয়ে যেতে পারেন। বিকাল হলে শহর থেকে পাইকাররা এসে টাটকা সবজি কিনে নিয়ে যান। আবার সকাল বেলা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসে সবজি কিনে নিয়ে যায় তার ক্ষেত থেকে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দুলাল উদ্দিন জানান, কৃষকেরা শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো ইত্যাদি সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও শীতের শুরু থেকেই সবজির আবাদ হচ্ছে আশানুরুপ। এ ছাড়া এখন নতুন ফর্মুলায় উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেতে চাষ হচ্ছে নানা ধরনের সবজি।

উল্লেখ্য,আব্দুছ ছালামের বয়স প্রায় ৬০ বছর। স্ত্রী ছাড়াও ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে তার সংসারে। এদের মধ্যে ৩ ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন ও ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এদের নিয়ে সুখে শান্তিতেই তার সংসার চলছে বলে জানিয়েছেন সবজি চাষি আব্দুছ ছালাম।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com