রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ড্রোন নজরদারি, মাঠে ৩৪ প্লাটুন বিজিবি বাহুবলে প্রভাবশালীদের দখল থেকে আড়াই একর সরকারি বনভূমি উদ্ধার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি জেলা পরিষদের পুকুর দখল, এক মাসের কারাদণ্ড চা বাগানে পূজার আনন্দ, শ্রমিকদের পাশে এমপি ফয়সল চুনারুঘাটে অবিরাম ভাঙছে পাহাড়-টিলা, নেই টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার: সিভিল সার্জন দুর্গাপূজায় চালের বরাদ্দ বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী: এমপি ফয়সল বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাকে হয়রানির অভিযোগ: সচেতন মহলের ক্ষোভ চুনারুঘাটে হযরত মুজিবুর রহমান (র:) হিফজ ও এতিমখানা: দুস্থ ও এতিম শিশুদের নিরাপদ ঠিকানা

যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে কিন ব্রিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : যান চলাচল বন্ধ করে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজকে পদচারী সেতুতে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েও তা থেকে সরে আসছে সিলেট সিটি করপোরেশন। নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দাদের দাবির প্রেক্ষিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরভবনে কিন ব্রিজ খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামা নাগরিকদের সাথে বৈঠকে বসেন আরিফুল হক। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে এমনটি জানান মেয়র।

মেয়র বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে পরামর্শ করে কিনব্রিজে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে আগামী ১৫দিনের মধ্যে এই সেতু দিয়ে রিকশা-বাই সাইকেল ও ভ্যানগাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা করবো।

তিনি বলেন, সেতুটি একেবারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এটি সংস্কার করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগবে। এই সময় সকলকে একটু কষ্ট সহ্য করতে হবে।

কিনব্রিজের পাশে আরেকটি সেতুর দাবি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আরেকটু সেতু বানানোর প্রয়োজন নেই। তবে কিনব্রিজের পাশে নদীর দুই প্রান্তের সংযোগকারী একটি টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর প্রাথমিক কাজ শুরুও হয়েছে।

বৈঠকে আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ কিনব্রিজে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় তাদের নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

এরআগে গত ১ সেপ্টেম্বর সংস্কারের জন্য কিন ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন। ঐতিহ্য রক্ষায় সেতুটি দিয়ে যান চলাচল একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সেসময় জানিয়েছিলেন মেয়র।

১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে সুরমা নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। তবু প্রতিদিন এই সেতুর উপর দিয়ে সুরমা নদীর এপাড়-ওপাড় হয় অসংখ্য যানবাহন। ফলে দেখা দিয়েছে ঝুঁকি। এমতাবস্থায় সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন।

প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৩ সালে সুরমা নদীর ওপর এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্রিজটির নির্মাণ শেষে ১৯৩৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্নর মাইকেল কিনের নামে এই সেতুর নামকরণ করা হয় কিন ব্রিজ। দৃষ্টিনন্দন লোহার পিঞ্জিরার ওপর লাল রং দেওয়া ব্রিজটির অবকাঠামো দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে সিলেট শহর থেকে পাক সেনারা পালিয়ে যাওয়ার সময় ঐতিহাসিক কিণ্ব ব্রিজে মাইন বিস্ফোরণ ঘটালে এর একাংশ ধসে যায়। পরে সরকার এটি পুনর্নির্মাণ করে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com