শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১১:১৮ অপরাহ্ন
শফিকুল ইসলাম রুম্মন, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কয়েকটি উপজেলায় কোরবানীর চামড়া তদারকিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ৷ “জাতীয় সম্পদ চামড়া, রক্ষা করবো আমরা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সার্বিক নির্দেশনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় কর্তৃক কোরবানীর প্রাণীর চামড়া তদারকি করা হয়।
৪ আগস্ট মঙ্গলবার অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় কর্তৃক শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় চামড়া ব্যবসায়ীদের দ্বারা সংগৃহীত কোরবানীর প্রাণীর চামড়া সরেজমিনে তদারকি করা হয়। শ্রীমঙ্গল উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী মো: লায়েক মিয়া, সোহেল মিয়া, হোসেন মিয়াসহ বেশ কিছু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে তারা এই বার বেশ কিছু চামড়া সংগ্রহ করেছেন এবং সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করছেন। এই ব্যবসাটি তাদের বাপ দাদার আমল থেকেই করে আসছেন উল্লেখ করে তারা জানান যে ঢাকার আড়তের মালিকগণ সঠিক সময় তাদের টাকা পরিশোধ করেন না তাই তারা চামড়া ব্যবসার প্রতি আগ্রহ দিন দিন হারিয়ে ফেলছেন। ঢাকার লালবাগ এলাকার পোস্তার চামড়া আড়তদারের কাছে মো: লায়েক মিয়া প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পাওনা থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে এবারও তিনি চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী ফজুল মিয়া ও হোসেন মিয়া জানান যে তারা সঠিক দামে চামড়া বিক্রয় করতে পারছেন না। যার কারণে এই ব্যবসায়ে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের মো: লায়েক মিয়ার মত তারাও ঢাকার পাইকারি চামড়া আড়তদারের কাছে অনেক বকেয়া টাকা পান। উক্ত ব্যবসায়ীদের প্রাণীর চামড়াগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার কথা উল্লেখ করে অধিদপ্তরের জেলা, কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমিন তাদেরকে চামড়া ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশ্বস্ত প্রধান করেন।
অপরদিকে গত ৩ আগস্ট রাজনগর উপজেলার চৌধুরী বাজার এলাকা ও কুলাউড়া উপজেলার উছলাপাড়ার চামড়া ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম তদারকি করা হয়। তাদেরকে অনুরোধ করা হয় চামড়াগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার জন্য। রাজনগরের রাসেল লেদার হাউজের মালিক রাজা মিয়া, চামড়া ব্যবসায়ী সালাম মিয়া, কুলাউড়ার চামড়া ব্যবসায়ী মতিন মিয়াসহ অনেকের কাছেই ঢাকার চামড়া আড়তের ব্যবসায়ীরা তাদেরকে সঠিকভাবে পাওনা টাকা পরিশোধ করেন না তদারকিতে এই ধরনের অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়। মৌলভীবাজারের এই সকল ব্যবসায়ীদের উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য বলা হয়েছে ৷
এই সকল চামড়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে চামড়া সংগ্রহ করলেও তাদের টাকা পরিশোধ করেননি। কোরবানীর প্রাণীর চামড়ার মূল্য গরীব ও এতিমরা পেয়ে থাকে উল্লেখ করে একপ্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আল আমিন জানান, এই সকল চামড়া ব্যবসায়ীদের মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সঠিক দাম পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ রাখেন।