শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

বাহুবলে প্রকাশ্যে অবৈধ করাতকল, বন উজাড়ে নীরব প্রশাসন

এস এম টিপু সুলতান, নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ করাতকল। বন আইন ও পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যেই এসব করাতকল পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ করাতকল চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই ছোট-বড় একাধিক করাতকল গড়ে উঠেছে। এসব করাতকলে প্রতিদিন বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকা থেকে কাটা মূল্যবান গাছ চিরাই করা হচ্ছে, ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

ডুবাঐ এলাকার বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন বলেন, “কোন করাতকল বৈধ আর কোনটি অবৈধ এটা সবাই জানে। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কারণ ‘উপরে টাকা পৌঁছায়’ এই কথাটা এলাকায় ওপেন সিক্রেট।”

অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন করা হয় এবং দিনের বেলায় নির্বিঘেœ করাতকলগুলো চালু থাকে। মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনার খবর শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা নেই বলে দাবি এলাকাবাসীর।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাহুবল উপজেলায় বর্তমানে মামলাবিহীন অবৈধ করাতকল রয়েছে ২৯টি এবং রিটকৃত ৯টি করাতকল চালু রয়েছে।

অবৈধ করাতকলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, “একটি অভিযান পরিচালনা করতে হলে একাধিক দপ্তরের সমন্বয় প্রয়োজন। আমি যোগদানের পর গত এক বছরে চারটি করাতকলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু অভিযানের পর করাতকল মালিকরা আবার চালু করে দেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আইনের চেয়েও অবৈধ করাতকল মালিকদের প্রভাব বেশি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার কোনো স্টাফ অবৈধ কর্মকান্ডে জড়িত এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে বা কেউ দিতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সামনে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, অবৈধ করাতকল বন্ধ না হলে বন উজাড় আরও ত্বরান্বিত হবে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে বাহুবলের বনাঞ্চল অচিরেই চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে বলেন, “বন কর্মকর্তার সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টসহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।”

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com