সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
নূরুল ইসলাম মনি : হবিগঞ্জ ১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি’র রেজা কিবরিয়া ‘কোটিপতি’। প্রতিদ্ব›দ্বী ৬ প্রার্থীর মাঝে সম্পদশালী হিসেবে তিনি সবার উপরে। সম্পদশালী হিসেবে সবার নিচে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা। তিনি লাখপতিও নন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের ৬ প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য মিলেছে।
রেজা কিবরিয়া : বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া তনয় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া ৭ কোটি ৫১ লক্ষ ৩০ হাজার ৮৩৬ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ৮ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬২৩ টাকার সম্পত্তি। তার বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা ও তার স্ত্রীর আয় ২৪ লক্ষ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনিত এ প্রার্থী হলফনামায় এসব তথ্য দিয়েছেন। ডি.ফিল ডিগ্রীধারী এ প্রার্থীর কাছে নগদ আছে ৩ কোটি ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার ৮৩৬ টাকা এবং যানবাহন ১০ লক্ষ, সোনাদানা ৫ লক্ষ ১০ হাজার, ইলেক্ট্রনিক পণ্য ২ লক্ষ ও আসবাবপত্র ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের।
এছাড়া তার ৩ একর ১০ শতক কৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৫০ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা এবং ১০.১২ শতক অকৃষি জমির মূল্য ২ কোটি ৫০ হাজার টাকা উলেখ করা হয়েছে। সর্বপ্রকার দায়-দেনা মুক্ত এ প্রার্থীর ধানমন্ডিতে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বাড়ি রয়েছে।
তার স্ত্রী রিফিম কিবরিয়ার কাছে নগদ ২ কোটি ১২ লাখ ১ হাজার ৬৯ টাকা ও ব্যাংকে জমা আছে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫৫৪ টাকা। তাছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে স্থায়ী আমানত আছে ১৭ লক্ষ টাকা। তার যানবাহন আছে ৮৯ লাখ টাকা, ইলেক্ট্রনিক পণ্য ১ লাখ টাকা ও আসবাবপত্র আছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের। এছাড়া তার ১২৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার রয়েছে।
মোহাম্মদ বদরুর রেজা : মাদরাসা শিক্ষক মোহাম্মদ বদরুর রেজা ৯২ হাজার ৯০৪ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। তার স্ত্রীর নামে কোন সম্পত্তি নাই। তার পেশাগত খাত থেকে বছরে আয় ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৩ টাকা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনিত এ প্রার্থীর হলফনামায় এসব তথ্য দিয়েছেন। কামিল ডিগ্রীধারী ৪২ বছর বয়সী এ প্রার্থীর হাতে কোন নগদ টাকা নেই। ব্যাংকে আছে তার ২ হাজার ৯০৪ টাকা। এছাড়া ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ১ তোলা স্বর্ণ, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক পণ্য ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। দাখিলকৃত হলফনামা মতে তার নামে জমিজমা, বাড়ি, গাড়িসহ কোন প্রকার স্থাবর সম্পত্তি নাই।
মোঃ শাহজাহান আলী : স্বকর্মজীবী জামায়াত নেতা মোঃ শাহজাহান আলী ২৫ লক্ষ ৪ হাজার ৬৩৫ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। শেয়ার, বন্ড/ সঞ্চয়পত্র/ ব্যাংক আমানত এবং চাকুরী থেকে তার বছরে ৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৮৫ টাকা আয় হয়। তার শিক্ষিকা স্ত্রীর মালিকানায় ১৮ ভরি স্বর্ণ ছাড়া কোন সম্পত্তি নাই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনিত প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন। হলফনামায় তিনি উলেখ করেন তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা ছিল। ইতোমধ্যে তিনি ১৯টি মামলা থেকে অব্যাহতি, ১৪টি মামলা থেকে খালাস ও একটি মামলায় জামিনে আছেন। এছাড়া ৩টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকা মূল্যের ১৭ শতক ৩২ লিংক কৃষি জমি রয়েছে তার নামে। এমএ পাস এ প্রার্থীর হাতে নগদ আছে ২১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৭৬ টাকা ও ব্যাংকে জমা আছে ৬১ হাজার ৯৮৫ টাকা। এছাড়া তার ৩০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ১ লক্ষ টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আছে।
শেখ সুজাত মিয়া : সাবেক এমপি ইংল্যান্ড প্রবাসী ব্যবসায়ী শেখ সুজাত মিয়া ৬ কোটি ৭১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। তার বছরে আয় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন।
শেখ সুজাত মিয়া বিগত ১৯৯৬ সনের ১৫ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচন ও ২০১১ সনে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়নে নির্বাচিত হন। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াই করছেন। হলফনামায় তিনি উলেখ করেছেন, তার নামে ৫টি মামলা ছিল। তন্মধ্যে ৪টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন এবং একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারী এডুকেশন সম্পন্ন করে এ প্রার্থীর স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ৫ কোটি ৪৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের (অর্জনকালীন মূল্য) কৃষি জমি, ১২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, ১২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। তার স্ত্রীদের মালিকানায় কোন সম্পত্তি নাই।
মোঃ সিরাজুল ইসলাম : খ্যাতিমান ইসলামী বক্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম (মিরপুরী) ১ কোটি ৭৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৩৮ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। ব্যবসা থেকে তার আয় বছরে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনিত প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন। হলফনামায় তিনি তার পেশা এবং তার উপর নির্ভরশীল এক কন্যার পেশা শিক্ষকতা উলেখ করলেও পেশাগত খাত থেকে তাদের কোন আয় উলেখ করেননি। মোঃ সিরাজুল ইসলাম-এর কাছে নগদ ৮ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৩৯ টাকা ও ব্যাংকে আছে ৭ হাজার ৩৪৯ টাকা। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা (অধিগ্রহণকালীন) মূল্যের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ টাকা মূল্যের টিভি-ফ্রিজ ও ১ লাখ টাকা মূল্যের খাট-পালং-সোফা রয়েছে। তাছাড়া তার নামে ব্যাংক লোন আছে ২৯ লক্ষ ১ হাজার ৩৯৩ টাকা। এছাড়া তার ১০ লক্ষ ৬৩ হাজার ১৫০ টাকা মূল্যের (অর্জনকালীন মূল্য) ০.৫৫ একর কৃষি জমি, ২৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ০.২১৯৫ একর অকৃষি জমি ও ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি/ এপার্টমেন্ট রয়েছে।
কাজী তোফায়েল আহমেদ : দৈনিক দেশবার্তা পত্রিকার সম্পাদক কাজী তোফায়েল আহমেদ ৪৭ লাখ ১ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। তার বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পত্তি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) মনোনিত প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন। হলফনামা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যাচাই-বাছাইকালে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় তিনি উলেখ করেন তার নামীয় ৫ একর কৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ১৫ হাজার টাকা, ৩ একর অকৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ৬ হাজার টাকা ও পৈত্রিক বাড়ির মূল্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তার নিজের কাছে নগদ অর্থ আছে ৫ লক্ষ টাকা এবং স্ত্রী কাছে নগদ আছে ৩০ হাজার টাকা। কাজী তোফায়েল আহমেদ-এর ব্যাংক হিসেবে আছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত আছে ১২ লক্ষ টাকা। ইলেক্ট্রনিক পণ্য আছে ৬ লক্ষ টাকার ও আসবাবপত্র আছে ৩ লক্ষ টাকার এবং তার স্ত্রীর ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একসেট গহনা আছে।