শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১৩ বছর পর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কার্যকরী কমিটি নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাহুবল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ১০টি পদে ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। উপজেলার মোট ৫৪৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫০৪ জন শিক্ষক ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল তালুকদার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
সভাপতি পদে মোহাম্মদ আব্দাল হোসেন ২৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আবুল কাশেম পেয়েছেন ২৩৬ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শাহজাহান তালুকদার ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল হক পেয়েছেন ১৭১ ভোট।
এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অমল কুমার ভট্টাচার্য্য ২২০ ভোট, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. আনোয়ার আলী ২৬০ ভোট, অর্থ সম্পাদক পদে মো. শাহ আলম ২৮৫ ভোট, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শামীম মিয়া ৩৭৯ ভোট, দপ্তর সম্পাদক পদে মো. হুমায়ুন কবির ২৯৫ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. মাহবুবুর রহমান ২৮৫ ভোট, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে নূর জাহান শেখ ২৯৬ ভোট এবং শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে আহমদ হাসান ৩৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
এর আগে প্রচার সম্পাদক পদে মুড়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সিব্বির আহমেদ আখঞ্জী এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ফয়জাবাদ মহাবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামছুদ্দিন মো. আসআদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাহুবল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটানা ভোটগ্রহণ চলে। মোট ৫৪৭ ভোটারের মধ্যে ৫০৪ জন ভোট প্রদান করায় ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখ্য, বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ১৩ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
এবারের নির্বাচনে কোনো পোস্টার বা প্রতীক ব্যবহার করা হয়নি। প্রার্থীরা সরাসরি ভোটার শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালান। ফলে ব্যতিক্রমী এ প্রচারণাকে ঘিরে নির্বাচনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।