মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: একসঙ্গে ১৩৭টি বিষধর ও নির্বিষ সাপ কোথায় অবমুক্ত করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে হবিগঞ্জ বন বিভাগ। এত বিপুলসংখ্যক সাপ একসঙ্গে অবমুক্ত করা হলে স্থানীয় জনবসতি ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
জানা যায়, গত ২ নভেম্বর সকালে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য রবি কাস্তা জেলার বিভিন্ন উপজেলার ঘরবাড়ি ও লোকালয় থেকে সাপগুলো উদ্ধার করেন। পরে তিনি সাপগুলো হবিগঞ্জের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। সাপগুলো রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সেখানে অবমুক্ত না করে হবিগঞ্জ বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে রাখা হয়।
বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে থাকা সাপগুলোর মধ্যে রয়েছে—পদ্ম গোখরা ৭০টি, খৈয়া গোখরা ৬০টি, দাঁড়াশ ৫টি, মা দাঁড়াশ ১টি, মা খৈয়া গোখরা ১টি এবং ৫টি ডিম। সব মিলিয়ে মোট ১৩৭টি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দাঁড়াশ ছাড়া বাকি সব প্রজাতির সাপই বিষধর। ফলে এতগুলো বিষধর সাপ একসঙ্গে রেমা-কালেঙ্গা কিংবা সাতছড়ির মতো তুলনামূলক ছোট বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হলে সেগুলো লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘সাপগুলো বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রেসকিউ সেন্টারে নিরাপদে রয়েছে। আমরা দেশের বিভিন্ন সাপ বিশেষজ্ঞ ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। তাঁদের পরামর্শ হচ্ছে, সাপগুলোকে ভাগ করে দেশের বিভিন্ন বড় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবমুক্ত করা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নির্দেশনা পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, চুনারুঘাট বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্য চিত্র রঞ্জন বর্মন বলেন, ‘এতগুলো বিষধর সাপ একসঙ্গে ছোট কোনো বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হলে পরিবেশ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাপগুলো খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সুন্দরবন কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো বড় ও গভীর বনাঞ্চলে অথবা উপযুক্ত আবাসস্থল বিবেচনায় বিভিন্ন স্থানে ভাগ করে অবমুক্ত করা যেতে পারে।’
এদিকে, অবমুক্তির উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় সাপগুলো এখনো বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। বন বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।