বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
চুনারুঘাটে অবিরাম ভাঙছে পাহাড়-টিলা, নেই টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার: সিভিল সার্জন দুর্গাপূজায় চালের বরাদ্দ বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী: এমপি ফয়সল বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাকে হয়রানির অভিযোগ: সচেতন মহলের ক্ষোভ চুনারুঘাটে হযরত মুজিবুর রহমান (র:) হিফজ ও এতিমখানা: দুস্থ ও এতিম শিশুদের নিরাপদ ঠিকানা চুনারুঘাট সীমান্তে ভারতীয় মদ ও রসুন জব্দ বাহুবলে জনতা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ চুনারুঘাটে এলপিজি ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বাহুবলে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেলেন ২৪ ভূমি মালিক সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা

নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি স্থানান্তর শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শহরতলির বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। নারী হাজতিদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়।

নবনির্মিত কারাগারটি উদ্বোধনের তিন মাস পর বন্দিদের এ স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নতুন কারাগারটি উদ্বোধন করেন।

সকাল পৌনে সাতটার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নবনির্মিত কারাগারে নিয়ে আসা হয় মহিলা হাজতিদের। এরপর কয়েদিদের নিয়ে আসা হয়। পর্যায়ক্রমে হাজতিদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

এর আগে পুরাতন কারাগারের প্রধান ফটকে নোটিশ সাঁটানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দিদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজনসহ সকলের সাক্ষাৎ কার্যক্রম আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’

উদ্বোধনের পর থেকে নব নির্মিত কারাগারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারারক্ষীসহ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কারাগারে অফিস করা শুরু করেন।

বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন। এর মধ্যে কয়েদি (সাজাপ্রাপ্ত) ৫০০ এবং হাজতি হলেন ১ হাজার ৮০০ জন।

বন্দি স্থানান্তর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন এবং নগরীর ও ধূপাদিঘীপারে পুরাতন কারাগারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। সকাল থেকে পুরাতন কারাগার থেকে নতুন কারাগার পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ র‍্যাবের চৌকস দলের নেতৃত্ব বন্দীদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৭৮৯ সালে আসামের কালেক্টর জন উইলিশ সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল ধোপাদিঘীর পাড়ে ২৪ দশমিক ৭৬ একর জমির ওপর কারাগার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ এটি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তরিত হয়। তখন কারাগারের ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় ১ হাজার ২১০ জনে। বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। জরাজীর্ণ অবস্থার পাশাপাশি কারাগারে রাখা হয়েছে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দিকে। বন্দিদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় এনে সিলেট নগর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বাদাঘাটে ৩০ একর জমির উপর নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১১ সালে দু’শ ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কারাগার নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে ওই বছর আগস্টে ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হলেও ২০১২ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কারাগারের সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এর কাজ, পুকুর খনন ও গ্যাস সংযোগ ছাড়া বাকী সব কাজ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যায়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com