শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বাহুবল হাসপাতালে সামনেই বর্জ্যের স্তূপ, পুকুরে কচুরিপানা- ডেঙ্গুর শঙ্কা চুনারুঘাটে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ৩ জন গ্রেপ্তার ১৩ বছর পর বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, ১০ পদে ২৩ প্রার্থীর লড়াই প্রধানমন্ত্রী দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান: এমপি ফয়সল চুনারুঘাট মিডিয়া এসোসিয়েটের নতুন কমিটি গঠন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বীকৃতিসহ ৬ দফা দাবি চা শ্রমিকদের বাহুবলে বজ্রপাতে কিশোর নিহত বাহুবল থেকে নিখোঁজ অটোরিকশা চালকের মরদেহ নবীগঞ্জের বাঁশঝাড়ে রাজার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

বাহুবল হাসপাতালে সামনেই বর্জ্যের স্তূপ, পুকুরে কচুরিপানা- ডেঙ্গুর শঙ্কা

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই জমে আছে বর্জ্যের স্তূপ। হাসপাতালসংলগ্ন পুকুরের পাড় ও পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে কচুরিপানা। জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মশার প্রজনন বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

৫০ শয্যাবিশিষ্ট বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন আমির উদ্দিন ও আলফু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সামনেই যদি ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে আর পুকুরে কচুরিপানা জমে মশা জন্মানোর পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসি, রোগীর সঙ্গে থাকতে হয়; কিন্তু এখানকার পরিবেশই যদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পুকুর পরিষ্কার ও মশক নিধনের ব্যবস্থা করা দরকার।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, রোগীদের সুস্থ করে তুলতে যেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতালের সামনেই যদি বর্জ্যের স্তূপ ও মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে রোগী ও স্বজনদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কীভাবে কমানো হবে?

দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার এবং হাসপাতাল এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (THC) ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী যোগদানের পর পুকুরটি সেচ দিয়ে মাছ ধরার পর থেকেই সেখানে কচুরিপানা জমতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা পরিষ্কার না হওয়ায় পুকুরের বিভিন্ন স্থানে পানি স্থির হয়ে আছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের অনুকূল হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, ‘মাঝে মধ্যে পরিষ্কার করাই।’

তবে স্থানীয়দের দাবি, মাঝে মধ্যে পরিষ্কার করলেই হবে না। হাসপাতালের আশপাশের বর্জ্য দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বলে দিচ্ছি, পরিষ্কার করানোর জন্য।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com