শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

ডাকাতিয়া নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু ডাকাতি

আরিফুর রহমান স্বপন, কুমিল্লা : কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২৮টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে ডাকাতিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছেন প্রভাবশালীরা। স্থানীয় প্রশাসন একাধিক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে মামলা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও থেমে নেই অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন। এ যেন দিনে-দুপুরে ডাকাতি। এর ফলে আশ-পাশের ফসলি জমি, ব্রিজ, কালভার্টে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে ওই প্রভাবশালীরা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অথচ এই আয় থেকে সরকার কোন রাজস্ব পাচ্ছে না। ডাকাতিয়া নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি তোলার স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে, উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের ধর্মপুর ঈদগাহ, হিলালনগর ব্রিজ সংলগ্ন, শাহাপুর, শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজার বাজার, ত্রিশকোট, শুভপুর ইউনিয়নের আকছর, পোটকরা কড়ীয়া বাজার, চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গিশ্বর, শাকতলা, পন্নারা, চিলপাড়া, কনকাপৈত ইউনিয়নের জাগজুর, জঙ্গলপুর, গুণবতী ইউনিয়নের পরিকোট ও আকদিয়া। এছাড়াও উপজেলার ছাতিয়ানি গ্রামে ড্রেজার মেশিনে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। এতে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি ও পুকুর ডোবা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ডাকাতিয়া নদী। এই নদীর দুই পাশে উভয় উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। নদীর উপর দিয়ে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের পারাপারের জন্য স্থাপন করা হয়েছে একাধিক ব্রিজ। তবে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মহল উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ২৮টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এর মধ্যে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পোটকরা (কড়ীয়া বাজার) সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড় থেকে শ্রীপুর ইউনিয়নের ত্রিশকোট মজুমদার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা থেকে গত তিন মাসে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার মাটি বিক্রি করেছে একটি চক্র। বর্তমানে এই অংশে মাটি বিক্রি শেষ পর্যায়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েক ব্যাক্তি জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট এই অবৈধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। ফলে কেউ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। এ ছাড়া প্রশাসনের সঙ্গেও সখ্যতা রয়েছে তাদের।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ইতিমধ্যে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। আর আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসব ঘটনায় জড়িতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে। অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com