বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

প্রয়োজনে বিমানবন্দরে পড়ে থাকব: প্রতিমন্ত্রী

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা : সচিবালয়ে না থেকে প্রয়োজনে রাতদিন বিমানবন্দরে পড়ে থেকে হলেও এ মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে গতিশীলতা আনবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী।

বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনীত করার খবর পাওয়ার পর থেকে অনেকেই আমাকে বলেছেন- এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি মন্ত্রণালয়। আর শপথ নেয়ার পরই আমি সিভিল এভিয়েশন ও বিমানবন্দরে গিয়েছি। খুঁটিনাটি সব ঘুরে দেখেছি। এরপরই প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার কার্যালয়ে ডাকেন। প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম নতুন হিসেবে কোনো ভুল করেছি কিনা। কিন্তু তিনিও আমাকে এ মন্ত্রণালয়ের চ্যালেঞ্জিংয়ের কথা বলেছেন। আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি সচিবালয়ে না থেকে রাতদিন বিমানবন্দরে পড়ে থেকে হলেও কাজকর্মে গতিশীলতা আনার চেষ্টা করব।

মাহবুব আলী আরও বলেন, সুইজারল্যান্ড অত্যন্ত সুন্দর দেশ। আমি সেখানে গিয়েছি। আর চাঁদনি রাতে আমি আমাদের পাহারি এলাকার রাস্তা ধরে হেঁটেছি। সুইজারল্যান্ডের সে সৌন্দর্য আমাদের দেশের এ সৌন্দর্যের কাছে ম্লান হয়ে যাবে। আল্লাহ পাক আমাদের প্রকৃতিকে নিজ হাতে সাজিয়েছেন। এখানে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকার সমুদ্রের তীরেও গিয়েছি। সেখানে গর্জন নেই। আমরা বিদেশি পর্যটকদের বলতে পারি তোমরা সমুদ্র দেখেছ, কিন্তু এর গর্জন দেখনি। বিদেশি পর্যটকদের কাছে তা তুলে ধরতে হবে। তাহলে এ শিল্পই পর্যটকদের আমাদের কাছে টেনে আনবে।

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে উত্তেজনা থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। যে নির্বাচনে এগুলো নেই তা নির্বাচন না। কিন্তু যখন বাক্সে শেষ ভোটবন্দি হয়ে যায় তখন সব উত্তেজনা এক কাতারে এসে শামিল হয়। যিনি নির্বাচিত হন তাকে সবাই বরণ করে নেয়। আর যিনি নির্বাচিত হতে পারেননি তার কষ্ট যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধির সমালোচনার মাধ্যমে লাঘব হয় সে প্রচেষ্টা করা। এটিই গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকতা থাকবে, সমালোচনা থাকবে। সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতাও আমাদের মধ্যে থাকতে হবে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে ভালো দিক পরমত সহিষ্ণুতা।

জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় এতে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সজিব আলী, ব্যবসায়ী নেতা ফজলুর রহমান লেবু, অ্যাডভোকেট আবুল ফজল ও সাংবাদিক রুহুল হাসান শরীফ প্রমুখ।

পরে প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com