বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

বানিয়াচংয়ে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক, ভালো ফলনের প্রত্যাশা

শেখ জোবায়ের জসিম, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ আগাম সবজি চাষ করে ইতোমধ্যে বাজারজাত শুরু করেছেন, আবার কেউ জমিতে চারা রোপণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় চলতি মৌসুমে সবজি চাষে আশাবাদী কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বানিয়াচং উপজেলায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতজুড়ে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যায়ক্রমে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। এতে মৌসুমের বিভিন্ন সময়ে সবজি বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শসা, বেগুন, মুলা, শিমসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আগাম সবজি চাষের পাশাপাশি পুরো মৌসুমের উৎপাদন ধরে রাখতে জমি তৈরি ও চারা রোপণে মনোযোগ দিচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে উপজেলার বাগহাতা, কাগাপাশা, দৌলতপুর, জাতুকনপাড়া ও বড়ইউড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সবজি চাষ নিয়ে কৃষকদের ব্যাপক কর্মব্যস্ততা। সকাল থেকে মাঠে কেউ হাল-মই দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ সবজি চাষের জন্য বেড তৈরি করছেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বীজ বপন ও চারা রোপণের কাজ। পাশাপাশি সবজি ক্ষেতে পোকামাকড় দমনে কীটনাশক স্প্রে করতেও দেখা গেছে কৃষকদের।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শাকসবজি চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে আলু, শিম, করলা, ফুলকপি, শসা, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, লালশাক, পুঁইশাক ও পালংশাকসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম সবজি আবাদ করা হয়েছে।

জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও সেচের কাজে কৃষক পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শ্রমিকরাও কাজ করছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট, মজুরি বৃদ্ধি ও রাসায়নিক সারের সংকট কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বানিয়াচং সদর উপজেলার ইনাতখানী গ্রামের সবজি চাষি এহিয়া রেজা জানান, চলতি মৌসুমে তিনি দুই বিঘা জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি কপি চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে হাল-মই, চারা রোপণ, বেড তৈরি, নিড়ানি, সেচ, সার ও কীটনাশক বাবদ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে সময়মতো সেচের পানি পাওয়ায় এ বছর প্রতি বিঘায় সেচ খরচ প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কমেছে। আগাম সবজি চাষে খরচ কিছুটা কম হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পেলে লাভের আশা করছেন তিনি।

মজলিশপুর গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন আহমদ জানান, অতিবৃষ্টির কারণে এবার দুই দফায় তাঁর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো তৈরি করা বীজতলার চারা এখন রোপণের উপযোগী হয়েছে। তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ওলকপি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক বলেন, দিনে রোদ ও রাতে ঠান্ডা—এ ধরনের আবহাওয়া আগাম সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষকরা আগাম ফসল বাজারে তুলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সবজি চাষের বিভিন্ন পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com