বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ঘূর্ণিঝড় রেমাল: ১৯ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত বাহুবল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাদ, সুন্দর ও দাঙ্গামুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাসার ছাদে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু রেমাল পরিণত প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে, মহাবিপদ সংকেত বাহুবলে ৫ আওয়ামীলীগ নেতাকে হারিয়ে আলেম চেয়ারম্যান নির্বাচিত শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাস যোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর- এসপি আক্তার হোসেন জনগণ যাকে ভালবাসবে, দায়িত্ব দিতে চাইবে, তাকেই দেবে- জেলা প্রশাসক বাহুবলে বিয়ের আনন্দ-ফুর্তি চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবতীর মুত্যু বাহুবল উপজেলা নির্বাচন : ২০ প্রার্থীর মাঝে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ বাহুবল উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফণীর বৃষ্টি তাহিরপুর সীমান্তের শ্রমিকদের জন্য আশীর্বাদ

তরফ নিউজ ডেস্ক : ঘূর্ণীঝড় ফণীর প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টি তাহিরপুর সীমান্তের কয়লা শ্রমিকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বৃষ্টি হলে তাদের মুখে হাসি ফুটে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে তাহিরপুর সীমান্তের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ছড়ায় কয়লা কুড়াতে ব্যস্ত থাকে হাজারো কয়লা শ্রমিক। গতকাল শনিবার ঘূর্ণীঝড় ফণীর ভয়কে উপেক্ষা করে তাই বৃষ্টির মধ্যেই শ্রমিকরা সীমান্তের লাউড়ের গড় থেকে বিরেন্দ্রনগর পর্যন্ত প্রায় ১৫টি পাহাড়ি ছড়ায় ঠেলা জাল দিয়ে কয়লা ধরেছে।

এ দৃশ্য প্রথমবার কেউ দেখলে মনে করতে পারেন যে, জাল দিয়ে পাহাড়ি ছড়ায় মাছ ধরছে তারা। আসলে তা নয়, আকাশের মেঘের ভাব দেখলেই সীমান্তের হাজারো নারী পুরুষ কোদাল, জালি ও টুকরি নিয়ে পাহাড়ি ছড়ার তীরে বসে থাকেন ভেসে আসা কয়লা ধরার জন্য। বৃষ্টি শুরু হলেই উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলেই হাজারো নারী, পুরুষ মেঘ-বৃষ্টি, বজ্রপাত উপেক্ষা করে তাড়াতাড়ি দিয়ে কয়লা কুড়াতে শুরু করেন তারা। স্থানীয়দের কাছে কুড়ানো কয়লা বাংলা কয়লা হিসেবে পরিচিত।

আর কুড়ানো কয়লা প্রতি বস্তা শ্রমিকরা স্থানীয়ভাবে বিক্রি করেন ৩ থেকে ৩৫০ টাকা।

শনিবার সরজমিনে দেখা যায়, তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলিসহ তিনটি কয়লা ও চুনাপাথরের শুল্কস্টেশন রয়েছে। এ ৩টি শুল্কস্টেশন দিয়ে ভারত থেকে কয়লা ও চুনাপাথর বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। ভারতীয় কয়লা রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশে কয়লা রপ্তানির লক্ষ্যে সীমান্তে ভারতীয় অংশে  মেঘালয় পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে কয়লা মজুত করে রাখে। পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় মজুতকৃত কয়লা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া দিয়ে পানির সঙ্গে বাংলাদেশে কয়লা ভেসে আসে। আর এসব কয়লা মাছ ধরার জাল দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কয়লা শ্রমিকরা ধরেন।

তাহিরপুর সীমান্তের লাউডের গড় থেকে বিরেন্দ্রনগর পর্যন্ত প্রায় ১৫টি পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, বড়ছড়া, চারাগাঁও, রজনী লাইন, লাকমা, বাগলি, কলাগাঁও, বীরেন্দ্র নগর, জঙ্গলবাড়ি, ট্যাকেরঘাট, চাঁনপুর ও যাদুকাটা।

বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় এসব পাহাড়ি ছড়া দিয়ে পানির সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ গাছপালা, বালি ও কয়লা চলে আসে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। আর ভেসে আসা কয়লা, গাছপালা বিভিন্ন নালা, ছড়া কিংবা নদী থেকে কুড়িয়ে  নেন বাংলাদেশের হাজারও নারী-পুরুষ। তবে এ চিত্র বেশি চোখে পড়ে বর্ষা মৌসুমে বড়ছড়া, চারাগাঁও ও কলাগাঁও ছড়াতে।

কলেজছাত্র শরীফ আহমেদ বলেন, প্রথমে দূর থেকে দেখে ভাবছি পাহাড়ি ছড়াতে জাল দিয়ে হয়তো তারা মাছ ধরছেন। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি, তারা পাহাড়ি ছড়াতে মাছ নয়, ভেসে আসা কয়লা ধরছেন জীবন জীবিকা নির্বাহ করার জন্য।

জঙ্গলবাড়ীর কয়লা শ্রমিক খোকন মিয়া বলেন, প্রবল বৃষ্টির দিনে ছড়া থেকে ৯০ থেকে ১০০ বস্তা কয়লা কুড়ানো যায়। এ থেকে তাদের ভাল টাকা রোজড়ার হয়।

শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী খসরুল আলম বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত হলে ভারত থেকে পাহাড়ি ছড়া দিয়ে প্রচুর পরিমাণ কয়লা ঢলের সঙ্গে  ভেসে আসে। ভেসে আসা কয়লা স্থানীয়রা পানি থেকে কুড়িয়ে তুলেন। কুড়ানো কয়লা ব্যবসায়ীদের কাছে ভালো দামে বিক্রি করেন তারা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com