রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বেহাল বিহারীপুর সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বাহুবলে পূর্ব বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৪০ সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে একটি শাটার বিকল, দেড় মাস গ্যারেজবন্দি বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স

সুনামগঞ্জের আরেক নারী ওমান থেকে নির্যাতিত হয়ে ফিরলেন

তরফ নিউজ ডেস্ক : “আমি নির্যাতনের শিকার হইয়া ফিরছি। বাড়িত গেলে আমার স্বামী আমারে ঘরো তুলতা নায়। আমার স্বামী কইছে ওমানের মালিক আমার সাথে খারাপ কাজ করছে, এর লাইগ্গা বাড়িত গেলে হাত পা ভাইঙ্গা ফালাইবো। স্যার আমি বাড়িত যাইতে চাইনা, আপনারা আমারে বাঁচাইন।”

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ওমান থেকে ঢাকার মাটিতে পা রেখেই ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে কথাগুলো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সুনামগঞ্জের দিলারা (২৬) (ছদ্মনাম)।

জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বীরগাও গ্রামের দিলারা গত ১০ জানুয়ারি গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে ওমান যান। মাত্র এক মাসেই অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

ইমিগ্রেশন ওসি দিলারার কথা শুনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ইমিগ্রেশন থেকে বিষয়টি জানানো হয় বিমান বন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেক্স ও ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তাদের। ইমিগ্রেশনে দিলারার সাথে কথা বলেন ব্রাকের তথ্য কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন।

আল আমিন নয়ন বলেন, “মেয়েটিকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে ওমানের মালিক (কফিল)। তার দুই চোখের নিচে কালো দাগ, মাথায় সেলাই। চেহারা দেখে আর তার মুখের ভাষ্য শুনে মনে হয়েছে দিলারা কোনো মানুষের কাছে নয় জানোয়ারের কাছে গিয়েছিলেন। নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি দেশে আসতে চাইলে মালিক তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। পরে ওমানে অবস্থানরত দিলারার এক ভাই এক লাখ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে এনে দেশে পাঠায়।”

নয়ন আরো বলেন, “দিলারার সাথে কথা বলে জানতে পারি তার স্বামী খুব একটা ভাল মানুষ না। নিয়মিত জুয়া খেলেন। এখন দিলারা তার বাড়ি গেলে তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবেন না দিলারার স্বামী। উপরন্তু  মারধর করবেন। দিলারার বাবা মা গরীব তাই তাদের কাছে ফিরে গেলে তাদের সংসারের বোঝা হয়ে যাবেন। তিনি বার বার বলছিলেন তাকে একটি কাজের ব্যবস্থা করে দিতে।”

এদিকে দেশে পৌছার পরপরই ব্রাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দিলারাকে জরুরী সেবা দেওয়া হয়। দিলারার ভাইকে ঢাকায় এনে শুক্রবার দুপুরে তার বাবার বাড়িতে পাঠানো হয় বলে জানান ব্রাকের তথ্য কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com