রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বেহাল বিহারীপুর সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বাহুবলে পূর্ব বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৪০ সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে একটি শাটার বিকল, দেড় মাস গ্যারেজবন্দি বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স

লাকসামে সীমানা বিরোধ নিয়ে হামলায় আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কোহিনুর প্রীতি, বিশেষ প্রতিনিধি, কুমিল্লা: কুমিল্লার লাকসামে জায়গা-জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সায়েম হোসেন (২২) নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের নগরী পাড়া গ্রামে পিতৃহারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সায়েম নানার বাড়িতে মাকে নিয়ে বসবাস করেন। নানার বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে পাশ্ববর্তী বাড়ির প্রতিপক্ষ জসিম উদ্দিন পাটোয়ারীর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। গত ১ এপ্রিল ওই বাড়ির লোকজন তাদের সম্পত্তি পরিমাপ করে দিলেও বর্ষার কারণে সীমানা পিলার দিতে পারেনি। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ রাতের অন্ধকারে নিজেদের সুবিধামতো সীমানা পিলার স্থাপন করে। বিষয়টি সায়েম স্থানীয় মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানানোর পর তাদের নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার (৪ জুলাই) সায়েম ও অন্যান্যরা ওই পিলার গুলো উঠিয়ে ফেলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জসিম উদ্দিন পাটোয়ারীর ছেলে লিংকন, লিমন ও লিপনের নেতৃত্বে তাদের পক্ষীয় লোকজন সায়েমের বাড়ি গিয়ে তাকে তুলে এনে পাশ্ববর্তী রাস্তায় নিয়ে বেধড়ক মারধর করে মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখে। সায়েমের মা পারুল বেগম স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। অবশেষে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে সায়েম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

স্থানীয়রা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী সায়েমের বাবা আবদুল কাদের বেঁচে নেই। অত্যন্ত গরীব ও নিরীহ পরিবারের স্বপ্ন ছিল সায়েমকে ঘিরে। সায়েমের স্বপ্ন ছিল, ইংরেজি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে পরিবারের হাল ধরবে। কিন্তু তার আগেই প্রতিপক্ষের হামলায় সায়েমকে না ফেরার দেশে পাড়ি দিতে হয়েছে।

এ ঘটনায় মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম শাহিন জানায়, সামান্য জায়গা-জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জসিম উদ্দিন পাটোয়ারীর পক্ষীয় লোকজন সায়েমদের বাড়ি গিয়ে তাকে তুলে নিয়ে রাস্তার ওপর নির্মমভাবে বেধড়ক মারধর করে। অত্যন্ত মেধাবী ওই শিক্ষার্থী অবশেষ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন। এ ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে ওই কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা থানায় মামলা করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com