রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বাহুবলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও পেল না বৃত্তি, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বেহাল বিহারীপুর সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বাহুবলে পূর্ব বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৪০ সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি

বাহুবলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও পেল না বৃত্তি, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি।

রোববার (১২ জুলাই) ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার সানশাইন মডেল স্কুল থেকে ট্যালেন্টপুলে ৪ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৫ জনসহ মোট ৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এছাড়া দ্যি হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ট্যালেন্টপুলে ২ জন ও সাধারণ গ্রেডে ৫ জনসহ মোট ৭ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

সরকারি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়ায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও কার্যকর একাডেমিক তদারকির অভাব রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মনিটরিং ও নজরদারি যথাযথভাবে করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

একাধিক অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও একজনও বৃত্তি না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক টিপু সুলতান জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি ভালো, শিক্ষার্থীও অন্যান্য অনেক বিদ্যালয়ের তুলনায় বেশি। শিক্ষকরা নিয়মিত সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ে ছুটিও দেন। কিন্তু শিক্ষার মান যদি সন্তোষজনক না হয়, তাহলে শুধু সময়মতো উপস্থিত থাকার কোনো মূল্য নেই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একসময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে মির্জাটুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়ার বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমাদের বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয় থেকে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাই ফলাফল নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। কোথাও কারিগরি ত্রুটি হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, রোববার সকালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে মোট ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) ৩২,৯৬৫ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৬,২৮১ জন নির্বাচিত হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com