মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চা-বাগানগুলোতে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস (DOTS) কর্নারে যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে ‘টু এফডিসি’ (রিফামপিসিন ও আইসোনিয়াজিড) ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চা শ্রমিকসহ দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার চন্ডিছড়া, আমু, নালুয়া, পারকুল, চান্দপুর, বেগমখান, লালচান্দসহ ১৭টি চা-বাগানে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে ২৭ জন, জুনে ২৫ জন এবং জুলাইয়ে ৩০ জন নতুন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস কর্নারে বর্তমানে নিবন্ধিত যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪০০। এখানে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় চাহিদা অনুযায়ী রোগীদের ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আ
মু চা-বাগানের যক্ষ্মা রোগী শনি মুণ্ডা বলেন, আগে মাসে একবার হাসপাতালে এসে পুরো মাসের ওষুধ নিয়ে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে ওষুধের সংকট থাকায় কয়েকবার হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাতায়াতের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে কাজের সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
চা শ্রমিকরা জানান, তারা মূলত দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল। তাই চিকিৎসার ওষুধ নিতে বারবার হাসপাতালে আসতে হলে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ বহন করতে হয়। এতে দরিদ্র রোগীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চিকিৎসকদের মতে, যক্ষ্মার মতো সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত ও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ওষুধ সেবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “ওষুধ সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই ওষুধের ঘাটতি পূরণ হবে এবং রোগীদের ভোগান্তি কমবে।”