বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আগামী নির্বাচনকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে: ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বাহুবলে কাল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যে সকল এলাকায় বাহুবলে রেলক্রসিংয়ে শিক পুঁতে চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ বাহুবলে ট্রাক চাপায় স্কুল শিক্ষক নিহত এভারকেয়ারে খালেদা জিয়ার পাশে পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষকদের শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত, ৪২ শিক্ষক নেতাকে বদলি শিক্ষকদের কর্মবিরতি: অভিভাবকদের ক্ষোভ, প্রধান শিক্ষকের একক প্রচেষ্টায় চলছে পরীক্ষা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক আন্দোলনের আহ্বায়ক সামছুদ্দীন স্ট্যান্ড রিলিজ হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় চরম সংকট

প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতি, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

তরিকুল ইসলাম মুমিন- ছবি: সংগৃহিত

তরফ নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী দফতরের গুরুত্বপূর্ণ নথি জালিয়াতির দায়ে করা মামলায় বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় বুধবার (৬ মে) রাতে ভোলার গাজীপুর রোডের বাসা থেকে তরিকুল ইসলাম মুমিনকে গ্রেফতার করে রাজধানীর তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরে তাকে সড়কপথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তরিকুল ইসলাম মুমিনসহ তিনজনকে শুক্রবার (৮ মে) তেজগাঁও থানায় দায়ের করা এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুবাইয়াত জামান গণমাধ্যমকে বলেন, জালিয়াতির এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে ৫ মে তরিকুল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমা ও ফরহাদ নামে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় তরিকুলকে ভোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রফিকুল আলমের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়।
এই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে ফোনে তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপরেই তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা।

মামলায় বলা হয়, এরপরেই সেই নথিতে তরিকুল ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেন।

একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। প্রায় এক মাস আগে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

এই নথি হস্তান্তরের আগে ফাতেমা ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং হস্তান্তরের পরে আরেক দফায় ১০ হাজার টাকা তার ছেলের বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে নেন বলে মামলায় বলা হয়।

প্রায় এক মাস আগের ঘটনা হলেও করোনাভাইরাসের কারণে মামলা দিতে দেরি হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
এই মামলায় শুক্রবার তরিকুলের সঙ্গে ফরহাদ ও নাজিম উদ্দিন নামে দুজনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নাজিম উদ্দিনের নাম মামলার এজাহারে না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এসেছে বলে আদালত পুলিশের কর্মকর্তা এসআই ফরিদ মিয়া জানিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com