মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের চার গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে জমে কাদাপানি। পিচ্ছিল পথে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় অনেকটা বন্দিজীবন কাটাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
চুনারুঘাট উপজেলার ১০ নম্বর মিরাশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাতুলা গ্রামের পশ্চিম পাশের এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন সোনাতুলা, আমতলা, হুরপাড়া ও ভোলারজুম গ্রামের বাসিন্দারা। সড়কটির বেহাল দশার কারণে চার গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিদিন আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। তাঁদের জন্য এটি যাতায়াতের অন্যতম সহজ পথ। কিন্তু বৃষ্টি হলেই সড়কে কাদা ও পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় চরম বিপাকে। জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে একই দুর্ভোগ চলতে থাকায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা ও পানি জমে যায়। তখন চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জনপ্রতিনিধিরা অনেকবার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।”
সড়কটির বেহাল দশার কারণে শুধু যাতায়াত নয়, স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে, সড়কটি সংস্কার করা হলে চার গ্রামের মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
এ অবস্থায় সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, এবার শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হবে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, “শিগগিরই এ রাস্তার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।”
এখন এলাকাবাসীর অপেক্ষা—কবে বাস্তবে শুরু হবে সড়কটির উন্নয়নকাজ, আর কবে অবসান ঘটবে চার গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের।