বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
জামাল হোসেন লিটন, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ): ভাষা, সংস্কৃতি, ভূমি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা।
এ দাবিতে মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি ও চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবপুরে সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কার্যালয়ে চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা তাঁর হাতে এ স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভাষা ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি ও সংরক্ষণ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, গেজেট সংশোধন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম, ঝাড়খণ্ডসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে এ অঞ্চলে চা শ্রমিক হিসেবে আসেন তারা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
চা শ্রমিকরা বলেন, তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধনের দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, চা শ্রমিকরা যেন নিজেদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বাংলাদেশে সমান সুযোগে সুনাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি জাতীয় সংসদে তাদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।
তিনি বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।