শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

৩ ঘণ্টায়ও পড়েনি একটি ভোট

চট্টগ্রাম : সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু। সব প্রস্তুতিও আছে। সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।  অপেক্ষা শুধু ভোটারের। অপেক্ষা করতে করতে পেরিয়ে গেছে তিনটি ঘন্টা। কিন্তু কাঙ্খিত ভোটাদের দেখা মেলেনি। যাদের জন্য এতো আয়োজন, সেই ভোটারের যেনো সামান্য ফুসরত নেই ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেয়ার। বেলা ১১টার সময় দেখা গেছে একটাও ভোট পড়েনি ফেনীর  মোহাম্মদ আলী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মঠবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে ফেনী শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়  সেখানে এক ঘণ্টায় একটি ভোট কাস্ট হয়েছে।

একই অবস্থা ফেনী সরকারি আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে। এখানে সকাল ১০টার পরও কেন্দ্রে ভোটারের সাক্ষাৎ মেলেনি।

ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বারাহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর খানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শর্শদী উচ্চ বিদ্যালয় ও মেজর সালাহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়  কেন্দ্রে। দাগনভূঞার পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলাইয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলগাজী উপজেলার আলি আজ্জম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ও সোনাগাজীর সেকান্তর মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়েও ভোটারশূণ্য কেন্দ্র দেখা যায়।

বেলা ১১টায় পর্যন্ত কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের দেখা যায়নি। তবে জেলার কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ফেনী সদর উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফেনী পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১১৭টি কেন্দ্রে ভোটের আয়োজন হলেও ভোটারদের দেখা মিলছে না।

কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনকালে ভোটাররা জানান, ভোট কেন্দ্রে না যেতে তাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা। অনেক ভোটার কেন্দ্রের আশপাশের ঘোরাঘুরি করলেও তাদের ভোটকেন্দ্রের দিকে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না তারা। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

ফেনী সদর উপেজেলার মঠবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি করেও ভোট দিতে পারেননি ৭০ বছরের ওবায়দুল হক। তাকে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়নি বলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তাদের সহায়তায় ভোট দিতে সক্ষম হন তিনি।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে মাঠে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিন স্তরের নিরাপত্তায় পুলিশ-আনসার সদস্যদের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। মাঠে রয়েছে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, জেলার চারটি উপজেলার ২৯২টি কেন্দ্রে ৫ হাজারের অধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।  মেজর সালাহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম স্বীকার করে তিনি বলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ১১৮টি ভোট কাস্ট হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন পাটওয়ারি জানান, সদর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ইভিএমে নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে ভোটারদের প্রশিক্ষণ ও মক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com