বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

ফুটবলার হামজাকে বরণের অপেক্ষায় বাহুবলের স্নানঘাট গ্রাম

নূরুল ইসলাম মনি : হামজা চৌধুরীকে বরণের অপেক্ষা বাহুবল উপজেলার স্নানঘাটবাসী। তার আগমনে সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ইংল্যান্ডের শেফিল্ড ইউনাইটেড-এর বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ফুটবলার হামজা চৌধুরী স্বপরিবারে আজ সোমবার অপরাহ্নে ওই গ্রামে আসছেন। পরদিন তিনি ঢাকায় জাতীয় ফুটবল দলের সাথে যোগ দেবেন।

এ উপলক্ষে ইংল্যান্ড থেকে সপ্তাহ তিনেক আগেই বাংলাদেশে চলে এসেছেন হামজা চৌধুরীর পিতা মোর্শেদ দেওয়ান চৌধুরী। এরপর থেকেই তাকে ব্যস্ততায় সময় কাটাতে হচ্ছে। তার আগমনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন তিনি। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

রোববার বিকেলে সরেজমিন স্নানঘাট গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হামজা চৌধুরীকে বরণ করতে সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তাতে স্বাগত জানিয়ে টাঙ্গানো হয়ে তোরণ। গাছে গাছে শুভা পাচ্ছে পেস্টুন ও ব্যানার। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনরা প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। পাড়া-প্রতিবেশী, শুভাকাঙ্খি, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন আসছে, খোজ-খবর নিচ্ছেন।

সেখানে কথা হয় স্নানঘাট গ্রামের তালেব আলী নামে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির সাথে। তিনি বলেন, হামজা চৌধুরীকে ছোট বেলায় দেখেছি। তখন তার বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল না। এখন তিনি খ্যাতিমান ফুটবলার। তার উপর নিজ দেশের হয়ে জাতীয় দলে অভিষেকের অপেক্ষায় আছে। এটা যেমন ফুটবলে দেশের মান বাড়াবে তেমনি আমরা স্নানঘাট তথা বাহুবলাবসীরও সম্মান বাড়াবে।

স্নানঘাট গ্রামের আবু তাহের নামে এক তরুন বলেন, আমাদের গ্রামের ছেলে হামজা চৌধুরীকে ইংল্যাণ্ডের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলতে দেখেছি। এবার তাকে কাছে থেকে দেখবো। এ জন্য আমিসহ এলাকার লোকজন উদগ্রীব।
নিজ বাড়িতেই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন হামজা চৌধুরী পিতা মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “রবিবার (১৬ মার্চ) ইংল্যান্ড সময় দুপুরে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে ম্যাচ খেলে রাতেই বাংলাদেশের বিমান ধরবেন হামজা হামজা চৌধুরী। সোমবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। ইংল্যান্ড থেকে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে স্ত্রী, তিন সন্তান, মা, দুই ভাইসহ ৯ জন আসছেন মোর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন।”

তিনি আরো বলেন, “হামজা আগেও গ্রামের বাড়িতে এসেছে। কিন্তু এবারের আগমন একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ এবার সে লাল-সবুজ জার্সী গায়ে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আসছেন। সবার মতো তাই আমি নিজেও রোমাঞ্চিত। এটি আমার জন্য সত্যি বিশেষ ব্যাপার। এবার খানিকটা অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে আমার। শুধু আমার ছেলে হয়ে এবার আসছে না, পুরো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আসছে।”

তিনি বলেন, “সিলেটে নেমে সরাসরি হবিগঞ্জের বাহুবল থানার স্নানঘাট গ্রামে নিজ বাড়িতে যাবেন হামজা। সোমবার সেখানে পরিবারের সাথে তিনি রাত কাটাবেন। পর দিন অনেকটা সময়ও গ্রামের বাড়িতেই থাকবেন। দিনের শেষ ফ্লাইট ধরে সিলেট থেকে ঢাকায় পৌঁছে যোগ দেবেন জাতীয় দলের সাথে।”

তিনি আরো বলেন, ইংলিশ লিগ মাতানো ফুটবলার আসার খবরে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনও হামজার অপেক্ষায় আছেন। আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের সবাই খুব আনন্দিত। বাড়িতে খুব বড় কোনো আয়োজন রাখছি না। যেহেতু অল্প সময়ের জন্য আসছে। স্থানীয়দের মধ্যেও অনেক আগ্রহ দেখছি। অনেক মানুষের সমাগম হবে। এতে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারে। কিভাবে সব কিছু সামাল দেব সেটাও ভাবতে হচ্ছে। তবে প্রশাসন সব সময় তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে।

স্থানীয় স্নানঘাট ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা ইমাম শরীফ হোসেন চৌধুরী জুয়েল জানান, ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা হামজা চৌধুরীকে বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “হামজা চৌধুরীর গ্রামের বাড়িতে আগমকে আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। যাতে তার নিরাপত্তায় কোন ঘাটতি না থাকে সে ভাবে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বদা নিয়োজিত থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।” তিনি আরো বলেন, এত কাছ থেকে তারকা ফুটবলারকে দেখতে পাবেন ভেবে আমার নিজের মাঝেও বাড়তি ভালো লাগা কাজ করছে। আমি গর্বিত তাঁর মতো একজন খেলোয়াড়ের অঞ্চলের মানুষ হতে পেরে। তিনি বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। ইংল্যান্ডের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা মানে তো বিশাল ব্যাপার!”

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com