রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

বয়স বাড়িয়ে শিক্ষিত তরুণদের কান্না থামাতে হবে

ছোটবেলায় পড়েছি লেখাপড়া করে যে গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে। বিষয়টা বই-পুস্তকে আর শিখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাস্তবতার সাথে এর রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। এদেশে রয়েছে কয়েক লক্ষ উচ্চ শিক্ষিত তরুণ-তরুণী। অথচ তাদের হাতে নেই কোন কর্ম, নেই চাকরিতে প্রবেশের পর্যাপ্ত সুযোগ। কিন্ত এই লেখাপড়া করে হতাশায় তরুণরা উল্টো গাড়ি চাপা পড়ে মরে। বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দূর্বার গতিতে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নে চিন্তা চেতনা এবং আধুনিকতা ও নতুনত্বের কোন কমতি নেই। কিন্তু সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সের বেলায় নেই কোন পরিবর্তন। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে একটা সীমিত বয়সের বাঁধায় আটকে রেখে দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া দেশ কি আসলেই এগিয়ে যেতে পারবে? সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। তবে চাকরির আবেদনে বয়সের দেয়াল রেখে দক্ষ মানবশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা কতটুকু আর তা কতদিন ধরে রাখা যাবে সেটাই বিবেচ্য বিষয়! শিক্ষিত তরুণদের এই বৃদ্ধি বেকারত্বের হারকে দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে দেশ কখনওই বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি কামনার স্বপ্ন দেখতে পারছে না। অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ পিতা-মাতা রোগে ভোগে, অনাহারে-অর্ধাহারে থেকেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন। তাই এই সব পিতা-মাতা, বিভিন্ন সচেতন মহল আর লক্ষ তরুণের একটাই যৌক্তিক প্রশ্ন ও দাবী- বয়স কেন বাঁধা হবে? আর কেনই বা আবেদনের ক্ষেত্রে বয়স সীমা বর্ধিত করা হবে না? এই সব যৌক্তিকতা সামনে নিয়ে তরুণদের একটা বিশাল অংশ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেও আসছে। কিন্তু কেন তাদের এই দাবিকে মেনে নেয়া হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়! চাকুরির আবেদনে বয়স সীমা ৩০ বছর পর্যন্ত কেন এই প্রশ্নের উত্তরে হয়ত তেমন কোন যৌক্তিক উত্তর কেউ দিতে পারবে না। কারণ এর অনুকূলে সঠিক ও পর্যাপ্ত অর্থবহ তেমন কোন যুক্তিই নেই। শিক্ষার যেমন কোন বয়স নেই তেমনি চাকরিতে প্রবেশে কেন বয়স থাকবে?
৯০ দশকের আগে বাংলাদেশে সরকারির চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ২৭ বছর আর অবসরের বয়সসীমা ছিল ৫৭ বছর। তারপর গড় আয়ু আর কর্মক্ষমতার বিচার করে ১৯৯১ সালের জুলাই মাসে শুধু বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়। তবে সর্বশেষ বিগত ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে শুধুমাত্র অবসরের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে সাধারণদের জন্য ৫৯ বছর আর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৬০ বছর করা হয়। এছাড়া অনার্স ও ডিগ্রী কোর্সে বাড়তি এক বছর করে বাড়ানো হয়েছে। সেশন জট, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার কারণে তরুণদের পড়াশোনা শেষ করতে তাদের বয়স ২৭/২৮ বছর হয়ে যায়। হাতে থাকা মাত্র ২/৩ বছর সুযোগ এক প্রকার প্রহসনের মতই। কারণ এই কম সময়ে বাড়তি পড়াশোনা করতে করতে আর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে পেতেই সময় শেষ হয়ে যায়। ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোন ছাত্র দাবী কেন্দ্রিক আন্দোলন এতদিন ধরে চলমান থাকে নি বা সরকার এভাবে ঝুলিয়ে রাখেনি। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। অন্যদিকে যুবনীতি ২০১৭তে যুবাদের বয়স ১৮-৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কেন চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা এখনও ৩০-এ থমকে থাকবে?
গড় আয়ু যখন ৪৫ ছিল তখন তখন প্রবেশের বয়স ছিল ২৭, সেটা বেড়ে ৫০ এর বেশী হলে প্রবেশের বয়স বেড়ে হয় ৩০। গড় আয়ু বাড়লে চাকরীতে প্রবেশ ও অবসরের বয়স দুটোই হারের ভারসাম্যতা রেখে বৃদ্ধি পাবে এই নিয়ম মানলে বর্তমানে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বা তার বেশী হওয়া শতভাগ যৌক্তিক ও উচিৎ। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান গড় আয়ু ৭২ বছর। এ নিয়ে দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশী সময় ধরে অহিংসভাবে আন্দোলনও চলছে। আন্দোলনকারীরা সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। করেছেন মানববন্ধন, অনশন, বিক্ষোভ সমাবেশ, প্রতীকী ফাঁসির মত কর্মসূচী। জাতীয় সংসদে এর প্রস্তাব উঠেছে অসংখ্যবার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পরপর যুক্তিসহ ৩ বার এর পক্ষে সুপারিশ করেছে। তবুও এই বিষয়টার কোন সঠিক সমাধান আজও হয়নি। জানা যায়, বহির্বিশ্বের প্রায় ১৬০ টিরও বেশী দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাংলাদেশের চেয়ে বেশী। ঐ সব দেশ তাদের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে বয়সের বাঁধায় আটকে রাখেনি। ঐ সব দেশে চাকরির আবেদনে সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ থেকে ৫৯ বছর পর্যন্ত সুযোগ রয়েছে। তাই তো তারা দিনের পর দিন দক্ষ মানবশক্তি ব্যবহারের কারণে উন্নতির সর্বোচ্চ সিঁড়ির পথে হাঁটছে। আমরাও কি তাদেরকে এই ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে পারি না? আমাদের তরুণরা তো আর সরাসরি চাকরি চাচ্ছে না। তারা শুধুমাত্র একটু প্রতিযোগিতার সুযোগ চাচ্ছে। নিশ্চয় এতসব যৌক্তিক দিক আর অনুকূল কারণ সামনে তুলে ধরে তাদের চাওয়াটা খুব বেশী কিছু নয়! তাছাড়া চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ ও সময় কম থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনার্স শেষ করা মাত্রই চাকরির বাড়তি পড়া ছাড়া তাদের মাথায় আর কোন চিন্তা থাকে না। বিসিএস বা নন ক্যাডারের মত চাকরির চিন্তায় একাডেমিক পড়াশোনার বেলায় তারা আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা খুব একটা করেন না। এতে করে উচ্চ শিক্ষত হওয়ার পথে বয়সটা রীতিমত অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি তারা মুখস্ত বিদ্যা ছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতার ধারে-কাছে ও থাকে না। অথচ আবেদনে বয়সসীমাটা বাড়িয়ে দিলে আর এই সব সমস্যাগুলো থাকবে না। বিভিন্ন চিন্তাবিদ, গবেষক আর বিশ্লেষকরা বলেছেন, চাকরির আবেদনে কোন বয়সসীমা থাকা কখনোই উচিৎ নয়। একজন লোক বাস্তব অভিজ্ঞতা, দক্ষতা অর্জন করে যে কোন সময় মেধা আর শিক্ষাগত যোগ্যতার বলে প্রজাতন্ত্রের কাজে প্রবেশ করতে পারবে। মানুষের এগিয়ে যাওয়ার পথে বয়স কোন বাঁধা নয়। আর তাই সেটা প্রমাণ করেছেন সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে দাপুটে খেলে মিশরের ৪৫ বছরের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক এসাম আল হাদারি। তিনি বুঝিয়ে দিলেন বয়স কোন বাঁধা নয়। এটি শুধুমাত্র একটি সংখ্যা। আর তাই তো দার্শনিক ফিলিপ ম্যাসিঞ্জার বলেছিলেন-“যে মনের দিক থেকে বৃদ্ধ নয়, বার্ধক্য তার জীবনে আসে না”। তাহলে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীরা কেন পারবে না? কেন তাদের হাতে দীর্ঘদিন ধরে এই ৩০ এর শিখল পড়িয়ে দেয়া হচ্ছে? তারা আজ পরিবার, সমাজ তথা সবার কাছেই অবহেলিত। ৫টি বছর বাড়িয়ে দিলে কি এমন ক্ষতি হয়ে যায়? তাদের গোপন আর্ত চিৎকার আর কান্নাকে থামাতে হবে। এক দশকেরও বেশী সময় ধরে দিন দিন বেড়ে যাওয়া শিক্ষিত বেকারদের এই বড় অংশটাকে কোনভাবে কাজে লাগাতে হবে। তাই তো সুযোগের প্রয়োজন। বিভিন্ন কোটা ধারীরা নিয়োগে কোটা সুবিধার পাশাপাশি আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের বাড়তি সুবিধাটাও পাচ্ছেন। অন্তত আবেদনের ক্ষেত্রে কেন এমন দ্বৈত নীতি হবে? কিন্তু যাদের কোনই সুবিধাই নেই তারা কোথায় যাবে? এটা তো কোন সঠিক নীতি বা মানবতার ইতিবাচক দৃষ্টিতে পড়ে না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার মাতা খেতাবপ্রাপ্ত। তিনি দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের কথা ভাবেন, সবাইকে খুশি রাখেন। আশা রাখছি হয়ত তিনি তাঁর সন্তানদের আর কষ্ট দিবেন না, থামিয়ে দিবেন তাদের কান্না। তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ ও সন্তানতুল্য এই তরুণদের মুখে একটু হাসি ফুটে উঠবে। শুধুমাত্র বয়সটা বাড়িয়ে দিলেই তরুণদের সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরে প্রবেশের হিরিক পড়ে যাবে। তাহলে একধাপে দেশে বেকারের সংখ্যা বহুগুণ কমে যাবে। দিনদিন কর্মহীন শিক্ষিতের হার বাড়লেও এতে গৌরব করার কিছু নেই যদি না তাদের কর্মে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করে না দেয়া হয়।
সরকারকে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। শহরাঞ্চলের তুলনায় পল্লী এলাকা বা দেশের বিভিন্ন অবহেলিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ-তরুণীরা স্বাভাবিকভাবেই মেধার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই কম সময়ে তারা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়াদের সাথে পেরে উঠতে পারে না। তাই তাদেরকে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার বিবেচনায় চাকরিতে প্রবেশনারি ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে দেয়া উচিৎ।

তাছাড়া আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শতভাগ নারীবান্ধব। অন্যদিকে চাকরির বয়স বাড়ালে নারীরাও সমাজ ও দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। কারণ দেশের বেশিরভাগ পরিবার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বয়স হলেই তাদের মেয়েদের বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পরে লেগে যায়। একেকটা মেয়েও ছেলেদের মতই কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীটি অর্জন করে। অথচ দেখা যায় ২৬/২৭ বছরে তাদের কষ্টার্জিত সনদ পিতা-মাতা ও বিয়ে নামক বাঁধার কাছে মূল্যহীন হয়ে যায়। তারা আর চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ মনে করে বেশী বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া খুব কষ্ট। এতে নানা রকম সমস্যারও সৃষ্টি হয়। এই বেশী বয়সের কারণে বিভিন্ন রকম খারাপ মন্তব্য শোনা যায়। অনেকে আবার বিয়ে না করে শত মন্তব্যের ঝুলি কাঁধে নিয়েও চাকরির চেষ্টা করে। প্রবেশে সুযোগের সীমা কম থাকায় চাকরি না পাওয়ার কারণে সমাজ ও এক শ্রেণীর মানুষের কাছে তারা অবহেলা ও অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত হয়। এমন কুসংস্কারের কারণেই হাজার হাজার মেধাবী মেয়েরাও দেশের উন্নয়নে ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার পথ থেকে অকালে ঝরে পরে। আবার অনেকের বিয়ে হওয়ার পরে নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে না। তবুও একটা পর্যায়ে যখন চাকরিতে প্রবেশের চিন্তা করে ঠিক তখনই তাদের বয়স পেরিয়ে যায়। বয়সের শৃঙ্খলে তারাও বন্দী হয়ে পরে। পাশাপাশি মানসিক দুশ্চিন্তা আর হতাশায়ও রীতিমত ভোগে। তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ালে এই একটা অবহেলিত শ্রেণীও প্রজাতন্ত্রের কাজে প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং সুখী ও সমৃদ্ধশালী ও বেকারমুক্ত দেশ গড়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, এ নিয়ে সরকার মহলে দ্বিমত আর দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সরকারের শীর্ষ মহলের কেউ কেউ বলছেন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করে দিলে নির্বাচনে তরুণদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পড়বে। আবার কেউ কেউ এর বিপরীতটা চিন্তা করছেন। তাই সরকার একে নির্বাচনী ইশতেহারে রেখে পরেরবার ক্ষমতায় এসে এর বাস্তবায়নের কথা ভাবছে। ফলে এমন প্রতিশ্রুতিতে তরুণ ভোটাররা উদ্বুদ্ধ হয়ে আওয়ামীলীগকে ভোট দেবে বলে ভাবছে সরকার। অন্যদিকে এই সব তরুণদের বেশিরভাগেরই বয়স ৩৫ও পেরিয়ে যাওয়ার পথে। তাহলে ইশতেহারে রাখলে তাদের কি লাভ হবে? যদিও এরকম অনেক প্রতিশ্রুতি আগেও দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই তরুণ ভোটারদের সংখ্যা হচ্ছে ২ কোটি ২৫ লাখ। কিন্তু তাদের সাথে রয়েছে তাদের পিতা-মাতা ও ভাই বোন। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এই সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যায়। তাই তরুণরা চাচ্ছেন নির্বাচনের আগেই তাদের দীর্ঘদিনের দাবীর বাস্তবায়ন হোক। তাহলে সকলেই সরকারের পক্ষে থাকবেন বলে তারা জানান দিয়েছেন ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে আর পেইজে।
তাছাড়া চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে দিলে সরকার ও দেশ বিভিন্ন ভাবে উপকৃত হবে। যেমন- সরকার প্রতিটি আবেদনে ব্যাংক ড্রাফ্‌ট বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে কয়েক কোটি করে টাকা পাবে, শিক্ষিত তরুণরা নানা রকম অপরাধকর্ম যেমন- মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সাথে আর যুক্ত হয়ে পড়বে না,  বেকারত্বের যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করবে না, ব্রেনড্রেন এর সংখ্যা শুন্যের কোটায় চলে আসবে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরে সমান তালে প্রবেশের সুযোগ থাকবে এবং নিয়োগ পরীক্ষায় কঠিন প্রতিযোগিতা থাকায় যোগ্য লোক সঠিক মেধার বলে নিয়োগ পাবে।
তাই দেশের কল্যাণমুখী চিন্তা বিবেচনায় ও তরুণদের কান্না থামিয়ে তাদের কাজে লাগাতে চাকরির বয়স ন্যূনতম ৩৫ বছর করতে সরকারের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাজমুল হোসেন
প্রকৌশলী ও লেখক
ই-মেইলঃ nazmulhussen@yahoo.com

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com